মুর্শিদাবাদের বাস দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ | বেঙ্গল গভর্মেন্ট আদেশে বাস ড্রাইভিংয়ের সময় মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ

January 30, 2018


মুর্শিদাবাদের বাস দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে  ৪২ :

২৯ জানুয়ারী ২০১৮ , মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদ থানার বালিরঘাটে নলিনী বাস্কে সেতুর ওপর থেকে গোবরা খালের জলে পড়ে যায় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার একটি বাস।  এই বাস দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে  ৪২ এবং খালের পাঁকে এখনও অনেক মৃতদেহ আটকে রয়েছে  বলে মনে করছেন অনেকে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ও এনডিআরএফ কর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মৃতদেহগুলিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও এই কাজে তাদের সাহায্য করে চলেছেন।

করিমপুর থেকে মালদা যাচ্ছিল এই বাসটি। মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের থেকে জানা যায়, বালিরঘাটে নলিনী বাস্কে সেতুর ওপর ওঠার সময় চালকের মোবাইলে ফোন আসে এবং  ফোনে কথা বলতে বলতেই তিনি বাস চালাচ্ছিলেন। তার বাঁ হাতে ছিল স্টেয়ারিং। এইসময় উল্টোদিক থেকে আসা একটি ট্রাককে পাশ কাটাতে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক এবং রেলিং ভেঙে গোবরা খালের জলে পড়ে যায় সরকারি বাসটি।

বাসের ভিতরে যাত্রী ঠাসা ছিল, ফলে মুহূর্তের মধ্যে এটি জলের অনেকটা গভীরে ডুবে যায়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে যান এবং তাঁরাই প্রথমে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। বাস দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা কিন্তু উদ্ধারকাজে পুলিশি তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে। ক্ষোভ আছড়ে পড়ে পুলিশের ওপর সেই রাগে, পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়।


দুর্ঘটনাগ্রস্থ বাসের যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য কলকাতা থেকেও আনা হয় ডুবুরি। জলে নামানো হয় নৌকা স্পিড বোট। দিনভর উদ্ধারের কাজ চলে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী চেষ্টা চালান, যদি শেষপর্যন্ত কাউকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাসটিকে খাল থেকে তোলার কাজে আনা হয় ক্রেন। বহু চেষ্টায় বিকেল নাগাদ বাসটিকে তোলা সম্ভব হয় এবং বাস থেকে বের করা হয় একের পর এক পুরুষ, মহিলা, শিশুর মৃতদেহ। উদ্ধারের পর মৃতদেহগুলিকে নিয়ে যাওয়া হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।



এখনও র্যন্ত ৩৬ জনের বাসযাত্রীর মৃতদেহ সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। স্বজনহারারা আত্মীযদের  ভিড় এখুন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রীই বাঁচার জন্য বাসের জানলা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। অনেকে আবার বাসের মধ্যেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

আশা করা হচ্ছে এখুনো অনেক মৃতদেহ খালের তলায় আটকে আছে।


বেঙ্গল গভর্মেন্ট আদেশে বাস ড্রাইভিংয়ের  সময় মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ  : 

এই দুর্ঘটনার জেরে বেসরকারি বাসের চালকদের মোবাইল ফোন কাছে রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল উত্তর দিনাজপুর আইএনটিটিইউসি।

নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (এনবিএসটিসি) চেয়ারম্যান মিহির গোস্বামী বলেন, গাড়ি চালনার সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়ে প্রতিটি বিভাগে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন যে, যদি গাড়ি চালানোর সময় ড্রাইভার এবং কন্ডাক্টর মধ্যবস্থায় থাকে তাদের বিরুদ্ধেও উপযোক্ত শাস্তি গ্রহণ করা হবে। এই দোষের জন্য তাদের তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হতে পারে।

সাউথ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (এসবিএসটিসি) চেয়ারম্যান তামনাশ ঘোষ পিটিআইকে বলেন, বাসের দায়িত্ব থাকাকালীন ড্রাইভারকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেলে  তাকে  ৩ মাসের জন্য সাসপেন্ড ও জরিমানা করা হবে।

আরো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে যাতে, বাস চালকের কোনো রকম অস্বাভাবিক আচরণ দেখতে পেলে, বাসের যাত্রীরা বাস এর নম্বর এবং লোকেশন জানিয়ে পরিবহন দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারে।

You Might Also Like

0 comments

Contact Form

Name

Email *

Message *

Like us on Facebook